প্রধান মেনু খুলুন

মালয়েশিয়ায় সাংবিধানিক রাজতন্ত্র প্রচলিত রয়েছে যা পৃথিবীর প্রচলিত অন্যান্য রাজতন্ত্র থেকে পুরোপুরি আলাদা এবং স্বতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। মালয়েশিয়ায় পশ্চিমা ধাচের গণতন্ত্রের সাথে সমন্বিতরুপে এই রাজতন্ত্র ১৯৫৭ সাল থেকে সুন্দর ভাবেই চলছে। পৃথিবীর একমাত্র নির্বাচিত রাজতন্ত্র মালয়েশিয়ায় রয়েছে যা জ্ঞানী আর রাষ্ট্র তাত্বিকদের আগ্রহের বিষয়ে পরিনত হয়েছে। মালয়েশিয়ার মোট ১৩ টি রাজ্যের মধ্যে নয়টি রাজ্য সুলতান বা রাজা দ্বারা শাসিত আর বাকী চারটি রাজ্যের গবর্নর কেন্দ্রীয় রাজা( ইয়াং ডি পারতুয়ান আগাং, YANG DI-PERTUAN AGONG, HIGH KING) কর্তৃক পাঁচ বছরের জন্য মনোনীত হন, তবে এক্ষেত্রে রাজাকে অবশ্যই ঐ রাজ্যগুলোর মুখ্য-মন্ত্রীদের পরামর্শ নিতে হয়। প্রতি পাঁচ বছর কিংবা রাজার আসন খালি হলেই রাজা সম্মেলন(মজলিস রাজা-রাজা) এর মাধ্যমে নয়জন রাজা কর্তৃক নতুন রাজা নির্বাচন করা হয় যিনি মালয়েশিয়ার সাংবিধানিক সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হন। মালয়েশিয়ার রাজা একাধারে রাষ্ট্রের প্রধান,সামরিক প্রধান, কুটনৈতিক প্রধান এবং ধর্মীয় প্রধান। তিনি পার্লামেন্ট ডাকেন এবং প্রয়োজনে ভেঙ্গে দেন। প্রধান মন্ত্রী নিয়োগ থেকে শুরু করে দেশের সব গুরুত্বপুর্ন সিদ্ধান্তে সংবিধান অনুযায়ী রাজাই সকল ক্ষমতার মালিক হলে মজার ব্যাপার হলো মালয়েশিয়ার রাজতন্ত্রের একটি অনন্য দিক হলো এখানে রাজারা এ পর্যন্ত কোন শাসনতান্ত্রিক কাজে হস্তক্ষেপ করেন না। শুধু মাত্র নামে মাত্র রাজার পদে অধিষ্ঠিত থাকেন এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই সকল ক্ষমতার চর্চা করেন ,সেটা কোন রাজ্যের বিষয় হোক আর কেন্দ্রীয় বিষয় হোক।

মালয়েশিয়ার তিনটি ফেডারেল অঙ্গ বা টেরটোরি এবং ১৩ টি রাজ্যের ভিতরও রয়েছে বৈচিত্র। ফেডারেল টেরিটরি গুলো হলো কুয়ালালামপুর ,লাবুয়ান ও পুত্রাজায়া। কুয়ালালামপুর হলো দেশটির রাজধানী আর পুত্রজায়া ১৯৯৯ সাল থেকে শাসনতান্ত্রিক রাজধানী হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ১৩টি রাজ্য এর মধ্যে ৯ টিতে আছে ঐতিহ্যবাহী রাজতন্ত্র( সেলাঙ্গর, জোহর, কেদাহ, কেলান্তান, নেগেরি সেম্বিয়ান, পারলিস, পেহাং,তেরেংগানু ও পেরাক) আর বাকি চারটি রাজ্য (পেনাং, মালাক্কা, সারাওয়াক ও সাবাহ)কেন্দ্রীয় রাজা কর্তৃক মনোনীত গবর্নর দ্বারা পরিচাআলিত হয়। কেন্দ্রীয় রাজা সম্মেলনে মূলত প্রধান উদ্দেশ্য নতুন রাজা নির্বাচন হলেও সেখানে ১৩টি রাজ্যের রাজা ও গবর্নরগন একত্রিত হয়ে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ন বিষয়ে আলোচনা করেন এবং প্রধান রাজাকে সিদ্ধান্ত প্রধানে সহায়তা করেন। নির্বাচিত কেন্দ্রীয় রাজা সংবিধান অনুযায়ী অনেক ক্ষমতা ভোগ করলেও বাস্তবে রাজা সম্মেলনে রাজার চারটি মর্যাদার বিষয়ে গুরুত্ব প্রদান করেন -১। রাজাদের সম্মান ২। মালয় ভাষার মর্যাদা ৩। ইসলামের মর্যাদা এবং ভুমিপুত্রদের অধিকার। সাধারনত এই সকল বিষয়ে রাজারাই সিদ্ধান্ত দেন ,সরকার তাদের সিধান্ত বাস্তবায়ন করেন মাত্র। কেন্দ্রীয় রাজা জনগণের সকল দেখভালের দায়িত্ব পালন করেন, নিজের রাজ্যের ও কেন্দ্রের প্রধান ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের ভুমিকা পালন করেন।

মালয়েশিয়ার বর্তমান কেন্দ্রীয় রাজার নাম পঞ্চম মোহাম্মদ অব কেলান্তান যিনি ২০১৬ সালের ১৩ ডিসেম্বর নির্বাচিত হন । তিনি ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১০ সাল থেকে কেলান্তান এর সুলতানের দায়িত্বে রয়েছেন। তার বর্তমান বয়স প্রায় ৪৯ বছর।

আগেই আলোচনা করেছিলাম যে রাজ্য অনুযায়ী রাজতন্ত্র্যের নির্বাচন ও ধরনে রয়েছে বৈচিত্র যা এখানে আলোচনা করা হলো-

১। সেলাঙ্গর- ১৭৪২ সালে সুলতান সালাউদ্দিন শাহ এই রাজ বংশের প্রবর্তক । এখানে রাজার উপাধি সুলতান এবং বর্তমান সুলতান শরফুদ্দিন শাহ যিনি ২০০১ সালের ২১ নভেম্বর থেকে সুলতানের দায়িত্বে আছেন। এখানে agnatic primogeniture নিয়মে রাজা নির্ধারিত হন যেখানে রাজার পুত্র পরবর্তী রাজা হবেন।

(চলমান)